বাংলাদেশ ও ঘূর্ণিঝড় রচনা | ৮ম শ্রেণীর রচনা বাংলাদেশ ও ঘূর্ণিঝড়
বাংলাদেশ ও ঘূর্ণিঝড় ;
ভূমিকা :
বাংলাদেশ দক্ষিন এশিয়ার নদী মাতৃক , নিম্নভূমি বিশিষ্ট একটা দুর্যোগ প্রবন দেশ। যার দক্ষিণে বঙ্গোপসাগর। উষ্ণ মন্ডলীয় অঞ্চলে গোলার্ধে অবস্থিত হওয়ার কারণে উষ্ণ মন্ডলীয় ঘূর্ণিঝড়ের একটা লীলাভূমিতে পরিনত হয়েছে দেশটি। প্রতি বছর বিভিন্ন ঘূর্ণিঝড়ের তাণ্ডবে চূর্ণবিচূর্ণ হয়েছে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল।
ঘূর্ণিঝড়ের মৌসুম বা সময়কাল :
প্রতি বছর প্রধানত এপ্রিল-মে এবং অক্টোবর-নভেম্বর হলো এই ঘূর্ণিঝড়ের মৌসুম । এই সময় আবার বিপুল বৃষ্টিপাতের ফলে সারা দেশ বন্যায় প্লাবিত হয়।সে কারণে ঘূর্ণিঝড় ও বন্যা শুধুমাত্র দেশের জীবন ও সম্পদের বিপুল ক্ষয়ক্ষতিই করে না , বরং এটা দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতেও ব্যপক নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে।
বাংলাদেশের ঘূর্ণিঝড়ের ইতিহাস :
বিগত দুই শতকে বাংলাদেশ প্রায় ৭৫টির অধিক ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড়কে মোকাবেলা করেছে যা দেশের লক্ষ লক্ষ মানুষের জীবনই শুধু কেড়ে নেয় নি একই সাথে হাজার হাজার কোটি টাকার সম্পদেরও ক্ষতি সাধন করেছে। যা গোটা বিশ্ববাসীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।
এগুলোর মধ্যে ১৯৭০ সালেই প্রায় দশ লক্ষ লোকের জীবন হানি ঘটে। ১৯৯১ সালে প্রায় দেড় লক্ষ লোকের জীবনহানি ঘটে। এ ছাড়াও ১৯৯৭, ১৯৯৮, ২০০৭,২০০৯, ২০১৬, ২০১৭, ২০১৯, ২০২০, ২০২২,২০২৩ ও ২০২৪ সালে যেসব ঘূর্ণিঝড় সংঘটিত হয় তাতে হাজার হাজার মানুষের জীবন হানি সহ বিপুল সম্পদের ক্ষতি সাধিত হয়।
বাংলাদেশে আঘাত হানা কিছু ঘূর্ণিঝড় :
২০০৭ সালের সিডর,
২০০৯ সালের আইলা,
২০১৩ সালের মহাসেন,
২০১৭ সালের মোরা,
২০১৯ সালের বুলবুল,
২০২০ সালের আম্পান,
২০২২ সালের সিত্রাং,
২০২৩ সালের মোখা,
২০২৪ সালের রিমাল সহ আরও অনেক ঘূর্ণিঝড় বাংলাদেশের উপকূলে আঘাত হেনেছে।
ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবিত অঞ্চল :
ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাব বাংলাদেশের দক্ষিণে এবং পশ্চিমের সাতক্ষীরা , খুলনা, বরিশাল ,বাগেরহাট, কক্সবাজার জেলায় বেশি পড়ে।
ঘূর্ণিঝড় সৃষ্টির কারণ :
আবহাওয়া এবং জলবায়ুগত পরিবর্তনের পাশাপাশি
বিশ্ব উষ্ণায়নের ফলে মেরু অঞ্চলের বরফ গলে যাওয়ার কারনে সাগরের উপরিতলের উচ্চতা বৃদ্ধি এর অন্যতম কারণ হিসাবে গণ্য করা হয়।
ঘূর্ণিঝড়ের সময় করণীয় :
বাতাস শান্ত হয়ে গেছে মনে হলেও ঘর থেকে বের হবেন না। বাতাসের গতিবেগ পরবর্তীতে আবারও বাড়তে পারে এবং তা ক্ষতির কারণ হতে পারে। ঘূর্ণিঝড় শেষ হয়ে যাওয়ার আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণার আগে নিরাপদ আশ্রয়ে থাকুন।
ঘূর্ণিঝড় মোকাবিলায় সরকারি পদক্ষেপ :
ঘূর্ণিঝড় মোকাবিলায় ইতোমধ্যে বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচী হাতে নিয়েছে বাংলাদেশ সরকার। আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ, কন্ট্রোল রুম চালু সহ বিভিন্নভাবে ঘূর্ণিঝড় মোকাবিলায় অবদান রাখছে সরকার।
উপসংহার :
বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থান এবং বৈশ্বিক পরিবর্তনের কারণে ঘূর্ণিঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত একটা দেশ হিসেবে পরিচিত ।
ঘূর্ণিঝড়ের দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব থেকে মুক্তি পেতে এবং জলবায়ুর পরিবর্তনে নিজেদের খাপ খাওয়ানোর জন্য প্রস্তুত হতে হবে । তাহলেই আমরা ঘূর্ণিঝড়ের ক্ষতি থেকে নিজেদের রক্ষা করতে পারবো।

.png)









